জয়-জয়কার কম্যুনিটিতে // স্টেট সিনেটে ৪ বাংলাদেশীর বিজয়

এনওয়াইভয়েস২৪ডটকম   প্রিন্ট
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬   সর্বশেষ আপডেট : ৬:১৭ পূর্বাহ্ণ

জয়-জয়কার কম্যুনিটিতে // স্টেট সিনেটে ৪ বাংলাদেশীর বিজয়

এনওয়াইভয়েস টুয়েন্টিফোর ডটকম

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমক্র্যাটদের বিশাল বিজয়ের আমেজে প্রবাসী বাংলাদেশীরাও উল্লাস করছেন। কারণ, ৪ স্টেট সিনেটে ৪ বাংলাদেশী আমেরিকানেরও বিজয় ঘটেছে। এরমধ্যে রিপাবলিকান পার্টি থেকে সপ্তম মেয়াদের জন্যে জয়ী হয়েছেন নিউ হ্যামশায়ার স্টেট রিপ্রেজেনটেটিভ হিসেবে পিরোজপুরের সন্তান আবুল খান।

আবুল খান।

জর্জিয়া স্টেটের সিনেটর (ডিস্ট্রিক্ট ৫)হিসেবে ডেমক্র্যাটিক পার্টি থেকে পঞ্চম মেয়াদের জন্যে বিনা-প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন কিশোরগঞ্জের সন্তান শেখ রহমান।

শেখ রহমান।

কানেকটিকাট স্টেটের সিনেটর চাঁদপুরের সন্তান মাসুদুর রহমান তৃতীয় মেয়াদের জন্যে ডেমক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়নে ডিস্ট্রিক্ট ৪ থেকে আবারো বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।

মাসুদুর রহমান।

নর্থ ক্যারলিনা স্টেট সিনেট ডিস্ট্রিক্ট-১৮ থেকে ডেমক্র্যাটিক পার্টির টিকিটে সিনেটর হিসেবে জয়ী হয়েছেন গাজিপুরের সন্তান হাসিব ফাতমী।

হাসিব ফাতমি।

স্টেট সিনেটরগণের অপরজন হলেন ভার্জিনিয়া স্টেট সিনেট ডিস্ট্রিক্ট-৩৭ এর সিনেটর সাদ্দাম আজলান সেলিম। নোয়াখালীর সন্তান এবং ডেমক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়নে ২০২৪ সাল থেকে এ দায়িত্বে রয়েছেন। সামনের বছর অনুষ্ঠিত হবে এখানকার নির্বাচন।

স্ত্রী এবং মা-বাবার সাথে হাসিব ফাতমি।

মার্কিন কংগ্রেসের উভয়কক্ষে ডেমক্র্যাটদের অবিস্মরণীয় জয়ের ধারায় প্রবাসীরা সরাসরি সম্পৃক্ত না থাকলেও স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনে বিজয়ের ঘটনাবলিরও গুরুত্ব অপরিসীম। কংগ্রেসের এবারের নির্বাচনের গুরুত্ব ঐতিহাসিকভাবেই অনেক বেশী ছিল। গত দু’বছর রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেসব পদক্ষেপ নিয়েছেন তা যুক্তরাষ্ট্রের নীতি-নৈতিকতার পরিপন্থি এবং অনেক ক্ষেত্রেই তা ছিল সংবিধানের সাথেও সাংঘর্ষিক-এমন অভিমত সুপ্রিম কোর্ট থেকেও এসেছে। অবশেষ শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ায় সকলেই হাফ ছেড়ে বেঁচেছেন বলে মূলধারার গণমাধ্যমে সকলেই মন্তব্য করছেন।

ব্রঙ্কসে বসবাসরত মূলধারার রাজনীতিক শাহজাহান শেখ বলেন, গত দু’বছর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অন্যায়-অপকর্মের দাঁতভাঙ্গা জবাব দিলেন ব্যালট বিপ্লবে। এটাই হচ্ছে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। এবারের ফলাফল থেকে নিশ্চয়ই রাজনীতিক ও নীতি-নির্দ্ধারকদের চিন্তা-চেতনায় কিছুটা হলেও প্রভাব আসবে এবং এটাই কঠোর পরিশ্রমী আমেরিকানদের প্রত্যাশা।
আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও রাজনীতি নিয়ে কর্মরত এবং ইউনিভার্সিটি অব ম্যারিল্যান্ডে গ্লোবাল ক্যাম্পাসের অধ্যাপক ফাইজুল ইসলাম বলেন, মিথ্যাচার আর ভন্ডামি বেশিদিন টিকে না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের লাগাতার অন্যায়-অবিচার-একনায়তন্ত্রের কবলে পড়ে আমেরিকানরা ত্যক্ত-বিরক্ত এবং ক্ষুব্ধ। তারই প্রকাশ ঘটলো ব্যালট বিপ্লবে। অধ্যাপক ফাইজুল উল্লেখ করেন, ট্রাম্পের কারণে রিপাবলিকান পার্টির ভিত তছনছ হয়ে পড়েছে। এখোন সময় হচ্ছে ঘুরে দাঁড়ানোর এবং এক্ষেত্রে ট্রাম্পকে দূরে সরিয়ে রাখতে হবে।
ব্যবসায়ী ও সমাজ-সেবক এবং লং আইল্যান্ডের আরএলবি গ্রুপ’র চেয়ারম্যান আকতার হোসেন বাদল বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণের দিন থেকেই যে ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন, তার ফলে জনমনে অসন্তোষ তৈরী হয়। ইরানে যুুদ্ধসহ ট্যারিফের নামে মিত্রদেশসমূহের সাথে বৈরী সম্পর্ক তৈরী এবং অভিবাসন-বিরোধী লাগাতার পদক্ষেপ গ্রহণের পরিপ্রেক্ষিতে খোদ রিপাবলিকান ভোটাররাও অতীষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য আকাশ চুম্বি হওয়ার খেসারত দিচ্ছি সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষেরা। এমন একটি অসহনীয় পরিস্থিতির অবসান চাচ্ছেন আমেরিকানরা এবং ব্যালটের মাধ্যমে তারই প্রতিফলন ঘটেছে।
মূলধারার রাজনীতিক কুইন্সে বসবাসরত খোরশেদ খন্দকার বলেন, এ বিজয়ের কৃতিত্ব ডোনাল্ড ট্রাম্পের। কারণ, ট্রাম্প যে প্রার্থীকে আক্রমণ করেছেন তারাই জয়ী হয়েছেন। এথেকে ডেমক্র্যাটদেরও শিক্ষা নেয়া দরকার। সামনের দু’বছর সিনেট ও কংগ্রেসে তৃণমূলের প্রত্যাশার পরিপূরক কাজ করতে হবে। তাহলেই হোয়াইট হাউজে ডেমক্র্যাটরা বিজয় পাবে।

মেরিল্যান্ডে বাস করা লেখক ও অবসরপ্রাপ্ত বিজ্ঞানী আশরাফ আহমেদ বলেন, এই মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের যতোটা না বিজয় হয়েছে তার চেয়ে বেশি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি অনাস্থার বিজয় হয়েছে বলে মনে করি। মাত্র দুই বছর আগে একই অনাস্থার সাথে প্রার্থী ট্রাম্পের পেছনে ধনকুবেরদের সমর্থনের ফলেই প্রেসিডেন্ট বাইডেনের পরাজয় ঘটেছিল। এখন সিনেট ও কংগ্রেসের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নিশ্চিত বিরোধীতাকে মোকাবেলা করে ডেমোক্র্যাটরা জনসাধারণের অর্থনৈতিক দুর্দশা কতটুকু লাঘব করতে পারে এবং সম্মানের সাথে ইরান-যুদ্ধ সামাল দিতে পারে সেটিই দেখার বিষয়। তাতে বিফল হলে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জেতা তাঁদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়বে। অথচ গণতন্ত্রের স্বার্থে সেই জেতাটা খুবই জরুরী। তবে মনে রাখতে হবে ক্ষমতায় যে দলই আসুক, বাংলাদেশের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নীতির বিশেষ কোনো হেরফেরের সম্ভাবনা কম।

Facebook Comments Box

Posted ৬:১৩ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

nyvoice24 |

Address
New York
Phone: 347-623-7137
Email: nyvoice24@gmail.com
Follow Us